মানব জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। এই সম্পর্কের একটি মূল দিক হলো গভীর ভালোবাসা ও সংযোগ গঠন। তবে কিছু নেতিবাচক অভ্যাস ও ভুল ধারণা এই সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনা করা
লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবারবিষয়ক পরামর্শক আবিগেল মেকপিস উল্লেখ করেন যে, অন্যদের জীবন দিয়ে সম্পর্কের মূল্যায়ন করা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তুলনা সাধারণত নেতিবাচক আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি করে। অন্য দম্পতির জীবনের কেবল বাইরের দিকটি দেখা যায়, তাই নিজেদের সম্পর্কের সঙ্গে তা তুলনা করা উচিত নয়।
এই অভ্যাসটি পরিত্যাগ করার জন্য মেকপিস বাহ্যিক তুলনা থেকে দূরে থেকে নিজেদের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং একসঙ্গে মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সন্তানের আগমন
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সন্তানের জন্মের বিশেষত প্রথম বছরে মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। মেকপিস উল্লেখ করেন, সন্তানের আগমন সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, কারণ নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। অনেকেই নতুন সম্পর্কের সঙ্গে নতুন দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না। তাই এই সময়টিতে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রদানের পরামর্শ দিয়েছেন মেকপিস। এর ফলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি জানান।
সঙ্গীর পরিবর্তন প্রত্যাশা না করা
অনেকে বিশ্বাস করেন, বিয়ের সময় যে ব্যক্তি ছিলেন, তিনি সারাজীবন একইভাবে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ সবসময় পরিবর্তিত হয়। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা কখনো ইতিবাচক হতে পারে আবার কখনো নেতিবাচক। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, এই সময়ে নিজেদের এবং সঙ্গীকে শেখার ও বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। এর ফলে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কের উপর পড়বে না।
নিজেকে অবহেলা করা
নিজের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি উদাসীনতা, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা অথবা আবেগের চাহিদা অগ্রাহ্য করার ফলে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য বরাদ্দ করুন। এর ফলে আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামগ্রিক সুখ বৃদ্ধি পাবে।
সহায়তা গ্রহণ না করা
সঙ্গীর সঙ্গে সুখী সম্পর্ক গড়ার পথে একটি বড় বাধা হলো সহায়তার প্রয়োজন মেনে না নেওয়া। মেকপিস উল্লেখ করেন, যখন প্রয়োজন হয় তখন সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার চিহ্ন নয়, বরং শক্তির প্রতীক। সহায়তা চাইলে কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং এতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমর্থন চাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, যা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন